ফেক্‌ – সানিয়া নামের একটি মেয়ের সপ্ন ভাঙ্গার গল্প

গল্প ফেক্‌ এ ফুলিয়া গ্রামের সাদাসিদে মেয়ে সানিয়া । বাবা সন্তোষ পারুই একজন স্কুল শিক্ষক । স্কুলের পড়াশোনা শেষ করে সানিয়া হকি খেলায় ব্যাস্ত । গ্রামের সেরা প্লেয়ার হওয়ায় সানিয়ার নাম সারা গ্রামে ছড়িয়ে পড়েছে । যেই টিমের হয়ে সানিয়া খেলে সেই টিম সব সময় জিতে আসে । আশে পাশের গ্রাম গুলির জনপ্রিয় খেলা হকি, তাই মাঝে মাঝে হকির টুর্নামেন্ট হয় । সবসময় সানিয়াদের টিম জিতে এসেছে । পাড়ার ক্লাবের বড়দের থেকেই সানিয়া অনুপ্রেরনা পায় এই হকি খেলার , তাই তার বাবাও কখনো আপ্ততি জানায়নি ।  মা হারা সানিয়াকে তার বাবা কখনো মায়ের অভাব বুঝতে দেয়নি । পাড়ার সবাই এসে সানিয়ার বাবাকে বলেন ওকে এবার District খেলার জন্য পাঠান । সন্তোষ বাবু জানান – “ আমি সাধারন স্কুল মাস্টার আমাদের এত সাধ্য কোথায় ।

পাড়ার ক্লাব এবং গ্রামের লোকেরা ঠিক করেন সানিয়াকে কলকাতা স্পেশাল ট্রেনিং এর জন্য পাঠাবে । যোগাযোগ করা হয় কলকাতার বিখ্যাত হকি কোচ রমেন বিস্বাসের সঙ্গে । রমেন বাবু প্রথমে রাজি না হলেও কিছু বেশী টাকার বিনিময়ে রাজি হন । ওনার ধারনা ছিল , সানিয়া গ্রামের মেয়ে কি আর এমন খেলবে একটু বেশী প্র্যাকটিস করতে দিলে কদিন পরেই নিজে থেকে ফিরে যাবে গ্রামে । গ্রামের লোকজন অভিনন্দন জানিয়ে সানিয়াকে কলকাতায় পাঠায় । রমেন বিশ্বাস সানিয়াকে দেখে অবাক হয়ে গেলেন , একটা গ্রামের মেয়ে এত সুন্দরী হতে পারে। উনি মনে মনে ভাবলেন না করলেই  এই সুন্দরীকে দেখার থেকে তিনি বঞ্চিত হতেন ।

এরপর উনি যখন সানিয়ার খেলা দেখলেন বললেন – “ তুমি তো রত্ন , শুধু তোমার দরকার খেলার আধুনিক টেকনিক ও নিয়মগুলি জানার । রমেন বাবুর আশ্রয়ে থেকে সানিয়া সমস্ত বড়লোক বাড়ির প্লেয়ারদের সাতে প্র্যাকটিস করতে থাকে । নিজের স্বার্থে রমেন বাবু সানিয়াকে খেলার সরঞ্জাম ও ড্রেস কিনে দেন। সংসারী রমেন বাবু পিছনে সানিয়াকে নিয়ে স্বপ্ন দেখতে থাকে । যদিও তিনি তা কাউকে বুঝতে দেয় না। সানিয়ার রুপ ও খেলার জন্য টিমের সকলে তাকে হিংসা করলে ও তাকে ছাড়া টুর্নামেন্ট খেলার কথা ভাবতেই পারেনা । সিলেকশনের তারিখ রমেন বাবুর মুখে শুনে সবাই লাফিয়ে ওঠে । সবার আনন্দে রমেন বাবু খুশি হলেও সানিয়ার কথা ভেবে রমেন বাবু মনে মনে অখুশি হলেন । ওনার ধারনা সানিয়া এক চান্সেই District Level – এ চান্স পাবে এবং একসময় India Team – এর হয়ে খেলবে সানিয়া , তখন সানিয়া আর রমেন বাবুর কাছে আসবে না ।

তাই রমেন বাবু সানিয়াকে বলেন –“ তোমার এখনও অনেক টেকনিক জানার প্রয়োজন আছে , আমি চাইনা তুমি প্রথম Selection – এ আটকে যাও তা ছাড়া এই Selection – যাওয়ার অনেক টাকা লাগবে , সেই টাকা জোগাড় করো তারপর যাওয়ার কথা ভেবো । সানিয়ার দুঃখ হয় , সে ভেবে পায়না কেনো রমেন বাবু তার সাথে এমন করছেন কারন এর আগে পর্যন্ত সমস্ত খরচা উনিই দিয়েছিলেন । সানিয়া ঠিক করে সে গ্রামে ফিরে যাবে এবং পরের দিন সে ফিরে আসে বাবার কাছে । সন্তোষ বাবু সানিয়ার মুখে সত্যিটা জানতে পেরে বলেন চল দেখি তর মায়ের জমানো কিছু টাকা ব্যাঙ্কে আছে সেগুলি তুলে আনি । এখন যদিনা লাগে তবে কবে আর কাজে লাগাবো।  

সন্তোষ বাবু এবং সানিয়া ব্যাঙ্কে যান এবং ৪৯,৫০০ টাকা ব্যাঙ্ক থেকে তোলেন । এরপর বাইরে এসে কোচ রমেন স্যার কে ফোন করেন  – “ স্যার আমি টাকার যোগার করতে পেরেছি , টাকাটা নিয়ে কি যাবো ? “ স্যার বললেন তুমি টাকাটা আমার  একাউন্টে জমা করে দাও , কারন আজই লাস্ট ডেট যা করার আজই করতে হবে । আমি যা করার করছি তুমি টাকাটা জমা করেই বেরিয়ে পড়ো । চলে এসো এখানে ।

চক্রান্ত

কাউন্টারে টাকাটা জমা দিলে বলেন এর মধ্যে ১০,০০০ টাকার জাল নোট আছে । তর্কাতর্কি হওয়ার পর সন্তোষ বাবুকে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয় । পুলিশের ধারনা সন্তোষ বাবু কোনো জাল নোট চক্রের সাথে যুক্ত আছে । সানিয়া ছুটে যায় উকিল কাকু Advocate – বিনয় মণ্ডলের কাছে । বিনয় বাবু খোঁজখবর নিয়ে সানিয়াকে জানায় – “তোমার বাবাকে ছারাতে গেলে ৫০,০০০ টাকা জমা করতে হবে। সানিয়া ফোন করে স্যার রমেন বিশ্বাসকে , রমেন বাবু সুযোগ পায় তাই সানিয়াকে তার ফার্মহাউসে ডেকে পাঠায় ।

সবকিছু শোনার পর রমেনবাবু সানিয়াকে বোঝান তিনি টাকাটা দিতে পারেন এবং তাকে Selection –  ও পাঠাতে পারেন কিন্তু এর জন্য তাকে রমেনবাবুকে খুশি করতে হবে । সানিয়া বলে – “ স্যার আমি আপনাকে সম্মান করি । “ স্যার জানান – “ আমি তোমাকে নিয়ে স্বপ্ন দেখি । “ স্যার আরও বোঝালেন প্রত্যেকটা নামী প্লেয়ারকে এই ভাবেই উঠে আসতে হয় । সানিয়া রাজি হয়ে যায় আর কোনো উপায় না পেয়ে । পরের দিন সকালে টাকা নিয়ে গ্রামে ফিরে আসেন ও উকিলবাবুর সাথে দেখা করেন । উকিলবাবুর সাথে পুলিশ স্টেশনে আসে , টাকা জামা দেন । রমেন স্যার সবটাই জাল নোট সানিয়াকে দিয়েছিল তাই পুলিশ সানিয়াকে ও গ্রেফতার করেন ।

পুলিশ আরো বেশী বিশ্বাসী হয়ে যায় যে বাবা এবং মেয়ে দুজনেই Fake Note এর চক্রে যুক্ত । বাবা ও মেয়ের ওপর টর্চার চলতে থাকে । সন্তোষবাবু সহ্য করতে না পেরে থানার মধ্যে মারা যান । সানিয়ার ওপর অত্যাচার করে পুলিশ তাকে ছেড়ে দেয় এবং বলেন কাউকে কিছু বললে তাকেও মেরে ফেলবে । এরপর বডিটা বাইরে ফেলে খাতায় সাজানো হয় সানিয়া তার বাবাকে মেরে পালিয়েছেন।

সানিয়া বাড়ি ফিরে জামাকাপড় নিয়ে কলকাতায় স্যার এর বাড়ি যায় কিন্তু স্যার সেখান থেকে চলে গেছেন জানান বাড়ির মালিক । সানিয়া একটি কসমেটিক্স এর Showroom – এ Sales এর কাজে লাগেন। Chief Minister বজ্রকান্ত সিংহর ছেলে বিজয় সিংহকে সানিয়া তার প্রথম টার্গেট বা অবলম্বন করেন । সানিয়া তার রুপের মোহতে ভুলিয়ে বিজয়ের সাথে বন্ধুত্ব করেন । বিজয়ের কাছে কথার মাধ্যমে জানতে চায় জাল নোটের সম্বন্ধে , কোথায় ও কিভাবে হয় । দু একটা জায়গার ঠিকানাও চুপি চুপি বলে দেয় । জেলে থাকার সময় সানিয়ার দুজন মহিলার সাথে কথা হয়েছিল তারাও বিভিন্ন ভাবে ফেক্‌ ব্যাক্তিদের সাহায্যে অপদস্থ হয়ে জেলে এসেছেন । তাদের যোগাযোগ করেন সানিয়া ।

তৈরি করেন Team Fake. লক্ষ্য ছিল ফেক নোটের ফ্যাক্টরি ও এদের সঙ্গে যুক্ত লোকদের শাস্তি দেওয়া । পুরুষদের মত পোশাক পড়ে রাতের অন্ধকারে গিয়ে সব কিছু বুঝে একে একে ফেক টাকার গোডাউনে আগুন লাগান । অরিজিনাল টাকাগুলো বের করে নিতেন এবং সেগুলি বিভিন্ন ভাবে আশ্রম ও গরীব লোকদের দিতেন । দিনের বেলায় টিভিতে খবর দেখে খুব খুশি হতেন সানিয়া ।

বিভিন্ন স্তরের খবর এবং ক্ষমতা হাতে পাওয়ার জন্য সানিয়াকে একাধিক রাত কাটাতে হয় । পার্টি , মদ, সিগারেট ছাড়াও বিজয়ের সাথে গিয়ে জুয়া খেলাও চলতে থাকে । এইভাবে সানিয়া নিজের টাকার পরিমাণ অনেক বাড়িয়ে নেয় । সানিয়াকে অপমান করেছে বলে জানিয়ে বিজয়কে দিয়ে বেশ কিছু মদের ঠেক , জুয়ার আড্ডা সানিয়া বন্ধ করিয়ে দেয় ।

বিজয়ের বাবা বজ্রকান্তখুব রেগে যায় বিজয়ের কাজে । বিজয়কে সানিয়া এক রাত তার কাছে রাখে এবং তার বাবার সম্বন্ধে জানতে পারে । জানতে পারেন ফেক টাকার জাল চক্রের মেন হচ্ছে তার বাবা কিন্তু কোনোরকম ভাবে বজ্রকান্তের নাম কোনো জায়গায় নেই । সানিয়া একে একে নিশানা করে ব্যাঙ্কের সেই কর্মী যে তাদের জাল টাকা দিয়েছিলো, তার হকির স্যার , সবাইকে খুজে বার করেন আর পুলিশের হাতে তুলে দেন । বিজয়ের কোনো ভাবে সন্দেহ হয় যে শহরে যে ঘটনাগুলো ঘটছে তার সাথে সানিয়া কোনোভাবে যুক্ত আছে । সানিয়াকে জিজ্ঞাসা করলে সানিয়া সবটা জানিয়ে দেয় ।

এরপর বজ্রকান্ত বাবু তার ছেলে বিজয়কে খোঁজখবর নেওয়ার জন্য বলেন এবং তাদেরকে ধরে আনতে বলেন জারা তার এতো ব্যাবসা ও লোকজন দের নষ্ট করেছে । বিজয় জানিয়ে দেয় তার বান্ধবি সানিয়া  এসব করেছে । বজ্রকান্ত বাবু মিডিয়ার সামনে সানিয়ার নাম ফেক কারবারের সঙ্গে যুক্ত বলে প্রচার করেন ও বিজয়ের কাছ থেকে নেওয়া সানিয়ার ছবি টিভিতে দেখান । বজ্রকান্ত সানিয়াকে মেরে ফেলার জন্য বিজয়কে দিয়ে সানিয়াকে তাদের ফেক ফ্যাক্টরিতে ডেকে পাঠান । সানিয়া সেখানে গেলে তাকে বেঁধে টর্চার করা হয় ।

এদিকে

ইন্ডিয়ান হকি টিমের মহিলারা ম্যাচ হেরে সানিয়ার কথা ভাবার সময় টিভিতে সানিয়াকে দেখে আর ছুটে আসে বজ্রকান্তের ফ্যাক্টরিতে । হকি স্টিক দিয়ে অ্যাকশন শুরু হয়, এরপর পুলিশ ও মিডিয়ার সামনে সমস্ত ঘটনা বলে বলেন – Fake Team এর হয়ে কাজ করলেও কোনো ফেক কাজ তারা করেননি । বিজয় তাতে সম্মতি জানান এবং তাকে ক্ষমা করে দিতে বলেন ।   

কলমে – অমিত পাল ।

নারকেলের পুর দিয়ে সবচেয়ে জনপ্রিয় পারফেক্ট পাটিসাপটা রেসিপি

Top 5 Tips to Spend Less Time on Phone – for Students

0 0 votes
Article Rating
Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Inline Feedbacks
View all comments
0
Would love your thoughts, please comment.x
()
x